অবশেষে নিজেদের স্বপ্নের ভবন পেলো 'বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভোলপমেন্ট' বিসিসিডিআই বাংলা স্কুল। যেটি যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি এলাকায় বাংলা স্কুল নামেই সবার কাছে বেশি পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে স্থায়ী এই কার্য্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি রোববার। উদ্বোধন করেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদুত মো: ইমরান। সেই সাথে তিনি উদ্বোধন করেন 'হল অব অনার' বোর্ড অর্থাৎ যাদের সহায়তায় দাড়িয়েছে বিসিসিডিআইয়ের নিজস্ব কার্য্যালয় তাদের খোদাই করা নামের তালিকা। আর সবশেষে উদ্বোধনের তালিকায় ছিলো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তা হলো একটি লাইব্রেরি।
উদ্বোধন করা আগে দুপুর ১২টায় কার্য্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সকল ভাষা শহীদের প্রতি অর্পণ সম্মান জানান রাষ্ট্রদূত মো: ইমরান।
এরপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মৃতির সম্মানে সবাই দাড়িয়ে এক মিনিট নীরবলতা পালন করা হয়। এরপর সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলা স্কুলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পঙ্কজ চৌধুরী।
সেক্রেটারি রিদওয়ান চৌধুরী ধন্যবাদ জানান, সকল পৃষ্ঠপোষক, শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাক, সমর্থকদের যারা শুরু থেকে বাংলা স্কুলকে নানাভাবে সমর্থন দিয়ে এসেছেন।
এরপর প্রধান অতিথীর বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত মো: ইমরান বলেন, অত্র এলাকায় সবার কাছে বাংলা স্কুল কতোটা জনপ্রিয় তা তিনি পুরোপুরি অবগত। বাংলা ভাষার চর্চা ও সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এই প্রতিষ্ঠান যেভাবে উপস্থাপন করছে তার কোন তুলনা হয়না। এই প্রতিষ্ঠানের পাশে সবসময় থাকবেন বলে তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে তিনজনের প্রতি জানানো হয় বিশেষ কৃতজ্ঞতা। যারা বিসিসিডিআইয়কে সহায়তা করে আসছেন নানাভাবে। আর তাদেরই একজন ভয়েস অব আমেরিকার দীর্ঘ সময় কাজ করা সাংবাদিক মাসুমা খাতুন। যিনি এই কার্য্যালয়ের লাইব্রেরি গড়ে তোলার পেছনে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ২৫০ বই দিয়ে সহায়তা করেছেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই তাদের মতামত উপস্থাপন করেন।
সবশেষে ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গ্রেটার ওয়াশিংটন এলাকায় সাংস্কৃতিক পারফরম্যান্সের জন্য খুবই জনপ্রিয় বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। রাষ্ট্রদূতের সামনে তারা নানা ধরনের পারফর্ম করেন।
১৯৮৭ সাল থেকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভোলপমেন্ট। ফেয়ারফ্যাক্স, আর্লিংটন, প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টির কমিউনিটির নাগরিকদের উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে আসছে। গ্রেটার ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় বাংলা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বাজায় রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের তরুণদের বিভিন্ন ভাষা শেখানোর জন্য শুরু থেকে কাজ করে আসছে বাংলা স্কুল। এই লম্বা সময়ের পথচলায় সংস্থাটি এতোদিন অস্থায়ীভাবে অন্য জাগয়ায় থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো।
কমিউনিটির সবার সহায়তায় ২০১২১ সালে জায়গা কিনে নতুন কার্য্যালয়ের কাজ শুরু করে দেয়। এবং সবশেষে এই কার্য্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করলো বিসিসিডিআউ বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠানটি।
