২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে খোলে, বহুল আলোচিত মালয়েশিয়া শ্রমবাজার। সেসময় চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ চুক্তির ফলে দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়।
উন্মুক্ত হলেও নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে শ্রমবাজারটি। এরপর ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বৈধভাবে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়া শুরু করে। বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটির তথ্য মতে, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় সাড়ে চার লাখ কর্মী মালয়েশিয়া গেছেন।
এদিকে, চলতি মাসের ৩১ তারিখ থেকে আবারো বন্ধ হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। যেসব কর্মী এর মধ্যে ভিসা পেয়েছেন বা পাবেন, তাঁদের আগামী ৩১ মের মধ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে হবে। এরপর বাংলাদেশ থেকে আর কোনো কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার সাথে আবারো কোন চুক্তি হচ্ছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আবারো কোটা পেতে কাজ করছে সরকার ।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খোলার পর বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেজ লিমিটেড- বোয়েসেল বিনা অভিবাসন খরচে দশ হাজার কর্মী পাঠানো কথা থাকলেও গত বিশ মাসে কর্মী পাঠিয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩শ ৮ জন। এ বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি এড়িয়ে যান। তবে,দায়সারা জবাব দেন বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেজ লিমিটেড- বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন।
এর আগে, দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। আবারো একই অনিয়মে একই পরিণতি বরণ করতে হলো কর্মীদের।
